অপ্রিয় সংলাপ

এই যে অপ্রিয় নামের মেয়েটা-কে নিয়ে এতো কিছু হাবিজাবি লিখি
অথচ মেয়েটা নিজেও জানে না তাকে নিয়ে
কত কি ভাবনারা বয়ে বেড়াই আমি
প্রথম দেখাতেই ভাল লেগে যায়,
কিছু মানুষ থাকে না খুব মায়াকাড়া, রূপবতী।
অপ্রিয়ও মনে হয় এদেরই একজন
কোথায় যেন পড়েছিলাম সব রূপবতীদের রুপের বর্ণনা দিতে হয় না।

আবার হুমায়ূন আহমেদের বইতে পড়েছিলাম
কমলা রঙের শাড়ীতে
মেয়েদের নাকি খুব রূপবতী লাগে
যদিও অপ্রিয়ের সাথে আমার প্রথম দেখা সবুজ শাড়ীতে
হালকা রোদে সবুজ শাড়ীতে অনেকটাই প্রকৃতির মত লেগেছিল
ওকে দেখার পর থেকেই কিছু এতিমের মত অনুভূতি নিয়ে
বিড়ালের মত পা টিপে টিপে আমার প্রথম প্রবেশ হয় রুপবতীর শহরে
তারপর থেকেই যাবতীয় নিঃসঙ্গতা আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় আমাতে।

হুমায়ুন আহমেদ এটাও বলেছিলেন কাউকে খুব বেশী ভালবাসতে নেই
খুব বেশী ভালবাসলে সে তোমাকে গ্রাস করবেই
কারণ মানুষের আছে ঝিনুক স্বভাব।
আমি আবার হলাম গিয়ে কচ্ছপ স্বভাবের মানুষের মতো তাড়াহুড়ো আমার মাঝে নেই।
প্রতিনিয়তই ধীর গতিতে দু’টো ক্ষুধার্ত চোখ নিয়ে
চেয়ে থাকি রুপবতীর সন্ধানে
কিন্তু এ ক্ষুধার্ত চোখে রূপবতী আসে না।
অথচ আমাতে প্রেমাসুখ নামক অসুখটা হয়েছিল
এই রুপবতীরই কাজল ডাগর চোখে চেয়ে থেকে।

যাইহোক,আসলে অনুভুতির প্রকাশ সবার একরকম হয় না
কেউ কেউ ভিন্ন হয় ;এই যে আমি প্রতিরাতে
বুক থেকে অনুভুতি গুলো বের করে ময়নাতদন্ত করি আর
কাটাকুটি শেষে ফরেন্সিক রিপোর্টে মেপে দেখতে চায় কতটুকু ভালবেসেছি।
অনেকেই বলে আমার মাঝে বেশ পাগল পাগল স্বভাব আছে
যদিও আমি কোনদিন পাবনাতে গিয়েছি বলে মনে পড়ে না।

যেটুকু স্মৃতি আছে তাতে আজও মনে পড়ে
আমার নিজস্বতা বলতে বুকের ভেতর ছিল
একটা ভালবাসাময় মফস্বলের শহর
বিশাল পাহাড়,নিজস্ব তুমি,চোরাবালির সংসার
চোখে বিশাল সমুদ্র -যার গভীরতা মাপা যায় না,
অথচ কি আশ্চর্য ব্যপার!!
এই সমুদ্রেই ভেসে ছিল আমার দো’টানার সংসার
টুকিটাকি আসবাব,জং ধরা সেফটিপিন
১০:১৭ তে থেমে থাকা ঘড়িটা;এছাড়াও
এখানে ওখানে খেয়ালে বেখেয়ালে ভুলের খামে
পুরনো দেয়ালে লেপ্টে থাকা নানান সব ফেলে রাখা ইতিহাসেরা।

এখন অতোটা গভীর ভাবে সব কিছু মনে করতে পারি না
তবে যেটুকু ভুলে অভুলে মনে হয়েছে
তার সব কিছুই জানান দেয় হয়ত এক সময়
অপ্রিয় নামে আমার কেউ ছিল
নয়তো অপ্রিয় নামক কোন এক ছায়া’কে ঘিরে আমি বেঁচে ছিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *