অপ্রিয় প্রথম দেখা

কাচা হলুদে গড়া লাল পেড়ে শাড়িটায় খুব মানিয়েছিল

অপ্রিয়’র এক হাতে কাচের চুড়ির

টুংটাং করা শব্দ আর,

অন্য হাতে রবীন্দ্রনাথ’এর “শেষের কবিতা”

উপহার স্বরূপ একগুচ্ছ কাশফুল বেশ রোমান্টিক।

এগুলো আমার হাতে তুলে দিতে দিতে বলেছিল

ভুল মানুষের চোখে ভালবাসা আঁকতে নেই

তাতে বিশ্বাস ভাঙে;

সম্পর্ক থাকে কিন্তু ভালবাসা থাকে না

আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে চেয়ে দেখছিলাম যে মেয়েটা

সম্পর্ক বুঝতো না,আজ সেই সম্পর্ক শেখাতে এসেছে।

অথচ তার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল

রবীন্দ সরোবরে;

নজরুলের কবিতা পাঠ করছিল

রবীন্দ্র সরোবরে নজরুলের কবিতা বড্ড বেমানান

তাকে এ কথা বলতে গিয়েই প্রথম পরিচয় আমাদের।

প্রতিনিয়ত যার সাজে একটু আধটু ভুল থাকে

অথচ এমন একটা দিনে;

তার সাজে এতটুকুও ভুল হয় নি

তার ভুল স্বভাবে ভুল না করা আমাকে অবাক করেছিল।

চোখের কাজল থেকে পায়ের আলতা সুনিপুণ ভাবে

লাগিয়ে এসেছে;কপাল চুম্বনে আটকে থাকা

ক্লান্তিতে ঘুমানো লাল টিপটা বলে দেয়,

প্রথমবার শাড়িতে মুড়ে নিজেকে আয়নায় ধরেছে

কুচি করা শাড়ির আঁচলে আজ বিন্দুমাত্র ভুল রাখে নি।

আমি অবাক নয়নে শুধু তার অভিনয় করা দেখছিলাম

বানভাসি নয়ন দুটো কিভাবে

কাজলের সাথে লুকোচুরি খেলে যাচ্ছে।

তাকে দেখে শেষ বিকেলের সূর্যটাও একটু একটু করে

ঢলে পড়ছিল ওপাশে,

শূন্য আলোয় তার পানে চেয়ে আমার বাকির দেনায়

কিছু খুচরা যাচ্ছিল জমে।

অপ্রিয়’র সুখ দেখে আমার এতটুকুও হিংসে হয় নি

শুধু আমার চোখ গুলো জ্বলছিল

সত্যিই বড্ড জ্বলছিল ;

অপ্রিয়’র স্বরচিত বাক্য গুলো সেদিন

আমাকে প্রথম অভিনয় করা শিখিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *